Contact: 8951233, +880 1911 485949
Golden Bangladesh, House#6, Road-1, Sector-4, Uttara, Dhaka-1230
অরুণা বিশ্বাস

Pictureঅরুণা বিশ্বাস
Nameঅরুণা বিশ্বাস
DistrictNot set
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeচলচিত্র ও নাটক
Life Style

দিন দিন মানুষের মাঝ থেকে বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে। এমনটা বলতে শোনা যায় লোকমুখে। বিশ্বাস কি সত‌্যিই হারিয়ে যাচ্ছে? 'হয়তো' আবার 'হয়তো না' দুটোই উত্তর হতে পারে। তবে পাঠক, কঠিন কোন বিষয় নিয়ে আমরা বলতে চাই না । আমরা শুনতে চাই অন্য বিশ্বাসের গল্প। আর এ বিশ্বাস হচ্ছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত বিশ্বাস পরিবারের একজন। তিনি অরুণা বিশ্বাস।

অমলেন্দু বিশ্বাস আর জ্যোৎস্না বিশ্বাসের মেয়ে অরুণা বিশ্বাস। এ তথ্য সবার জানা। সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অরুণা চলচ্চিত্রে এসে নিজের মেধা আর দক্ষতা দিয়ে জয় করে নেন বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের মন। '

চাঁপাডাঙার' বউ চলচ্চিত্রে অরুণা বিশ্বাসের অভিনয় এখনো আড্ডার আলোচনার বিষয় হয়। আর এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে নিয়মিতই অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রে। প্রায় ১শর মত সিনেমায় হিরো হিসেবে পেয়েছেন, বাপ্পা রাজ, ইলিয়াস কাঞ্চন, ওমর সানি, আলী রাজ, ইমরান এবং মান্নাকে।

যেমন নাচতে জানেন তেমন গাইতেও পারেন এ অভিনেত্রী। আর এসব গুণ তার কাজে লাগে অভিনয় করতে এসেই। চলচ্চিত্র আর টেলিভিশন নাটকের আগেও মঞ্চে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় তার। ছিলেন বহুবচন

নাট্যদলের সদস্য। কামাল উদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় 'তিন পয়সার পালা' নাটকের মাধ্যমে ঢাকার মঞ্চের দর্শকের সামনে হাজির হন তিনি। অন্যদিকে ১৯৮৪ সালে নরেশ ভুঁইয়ার পরিচালনায় 'এখানে জীবন' নাটকে আফজাল হোসেনের বিপরীতে অভিনয় করে ছোট পর্দার দর্শকের মন জয় করেন।

মঞ্চ, চলচ্চিত্র আর টিভি নাটক। সমান তালেই তখন সব চলছিলো। মঞ্চ আর টিভি নাটক ধীরে ধীরে ছোট হয়ে বড় পর্দাই বড় হয়ে ওঠে এ তারকার কাছে। এ বিষয়ে তার ভাষ্যটা ঠিক এমন, 'নিজের পড়ালেখা, বাবার অসুস্থতা, এবং সিনেমায় কাজ বেশি করার কারণে সে সময়টায়

আমি মঞ্চ নাটকে আর সময় দিতে পারছিলাম না। টেলিভিশন নাটকও তখন কমিয়ে দেই। সিনেমা অনেক বড় মাধ্যম। এখানে অনেক সময় ও শ্রম দেওয়ার প্রয়োজন হয়। আমি এখনো সে সব সময়গুলোকে মিস করি। অনেক সুন্দর ও আনন্দের ছিলো সে সময়।'

কথা শেষ করে গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এ অভিনেত্রী। আলোচনার প্রসঙ্গটা পাল্টানো প্রয়োজন। দেয়ালে ঝুলে থাকা একটা ছবি দেখে প্রশ্ন ছুড়ে দেই। এই ছবিটা কার?

হাসি ফুটে ওঠে তার চোখে মুখে। হাসিমুখে বলেন, 'আমার ছেলে শুদ্ধ। খুব সুন্দর না আমার বাবুটা? ওর বাবার সঙ্গে আমেরিকায় থাকে। আমি যখন কানাডায় ছিলাম তখন আমার সঙ্গে ছিলো। আমি ওকে বলেছি, ফিল্ম করতে। তার আগ্রহ আছে ফিল্ম বিষয়ে। কোন কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।'

চলচ্চিত্র আর টেলিভিশন নাটক। দু জায়গায়ই রেখেছেন নিজের স্বাক্ষর। প্রতিনিয়ত কাজের মাঝেই থাকতে পছন্দ করেন। শোনা যাক তার মুখে , 'আমি সত্যিই খুব কাজ পাগল। অলসতা আমার একদম পছন্দ না। পরিশ্রম করতে পারি। এতটা পথ এসেছি নিজের শ্রম আর মেধা দিয়ে। ছিলো বাবা-মা’র আর্শীবাদ, বন্ধুদের ভালোবাসা। একটা মজার গল্প বলি,

আমি কানাডা থেকে আমেরিকা গিয়েছিলাম একটা ‌ট্যুরে। যেতে যেতে যত বাঙালিদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, সবাই প্রথমে আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। তারপর বলে 'আপনি আমাদের অরুণা বিশ্বাস না?' এই যে মানুষ এখনো আমাকে মনে রেখেছে এটা ভালো লাগে। আর এটা সম্ভব হয়েছে চলচ্চিত্রের কারণে।'

একটা সময় হঠাৎ করেই কানাডা প্রবাসী হয়েছিলেন তিনি। ঢাকা টু কানাডা রুটে তার যাতায়াত হয় বছরে দুই বছরে। মাঝে মাঝে দেশে আসেন পর্যটকের মত। দু একটা কাজও করেন। কিন্তু কানাডায় মন বসে না তার। অভিনয় ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না। তাই দেশে এসে ২০০৩ সালে সিদ্বান্ত নেন নিয়মিত অভিনয় করার। ঐ সময় নাট্যনির্মাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান পরিচালকের খাতায়। শুরু করেন নাটক নির্মাণ ও নাটকে অভিনয়।

দু’বছর বিরতি দিয়ে আবারো পুরোদমে অভিনয়ে নামার জন্য দেশে এসেছেন গত ফেব্রুয়ারিতে। দেশে ফেরার পর থেকেই ব্যস্ত রয়েছেন নাটক আর চলচ্চিত্রের অভিনয়ে। এর মধ্যে অভিনয় করেছেন চয়নিকা চৌধুরী, ডায়েল রহমান, নার্গিস আক্তারের পরিচালনায়।

'দুই প্রান্তর' নামে নিজের লেখা একটি নাটকও নির্মাণ করেছেন। আসছে ঈদের জন্য নাটক, টেলিছবি নির্মাণের পরিকল্পনাও করছেন তিনি। বেশ ব্যস্ততায়ই কাটছে তার বর্তমান সময়। ব্যস্ততার কথা জানালেন এভাবে, 'আমি দেশে এসেছি একটি কারণেই- সারাক্ষণ অভিনয়ে ডুবে থাকতে। এ ব্যপারে সকলেই আমাকে সহযোগিতা করছেন। বেশ কাজের অফার পাচ্ছি।

 তবে একটু ভেবে চিন্তে কাজ হাতে নিচ্ছি। আমি প্রচুর কাজ করতে চাই তাই বলে এ নয় যে যা-তা কাজ করবো। নতুন একটি মেগা সিরিয়ালে কাজ করছি। চাষী নজরুল ইসলামের ফিল্মে কাজ করতে যাচ্ছি। ঈদের কিছু কাজের শুটিং করছি। বেশ ভালোই কাজের মধ্য দিয়ে আমার সময় কেটে যাচ্ছে। '

যত ব্যস্ততা আর কাজই থাকুক না কেন, তার কাছে কিন্তু পরিবারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পরিবারকে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, 'যত কাজই করি না কেন, আমার কাছে সবার আগে আমার পরিবার। ক্যারিয়ারের জন্য পরিবারের সদস্যদের কষ্ট দিতে পারি না। পরিবারকে সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিত।'

ভাই মিঠু বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফিল্ম বানানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণ, অভিনয়, আর পরিবার। এই নিয়েই অরুণার বিশ্বাসের গল্প। অরুণার বিশ্বাস তার সব স্বপ্ন পূরণ হবে। আর সে বিশ্বাসের জোর নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

 
তথ্যসূত্র : সরেজমিন বার্তা
UploaderAdmin
No results found.
No results found.

© 2018 Golden Femina. Developed by Optimo Solution