Contact: 8951233, +880 1911 485949
Golden Bangladesh, House#6, Road-1, Sector-4, Uttara, Dhaka-1230
আমিরা হক

Pictureআমিরা হক
Nameআমিরা হক
DistrictDhaka
ThanaNot set
Address
Phone
Mobile
Email
Website
Eminent Typeকর্পোরেট এক্সিকিউটিভ
Life Style

আমিরা হক

জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেলারেল ও মাঠ-সহায়তা বিভাগের প্রধান আমিরা হক। তিনিই প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি, যিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল (ইউএসজি) হওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেছেন। ২০১২-এর ১১ জাতিসংঘের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ফিল্ড সাপোর্ট' বিভাগের প্রধানের জুন পদটি অলংকৃত করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে যোগ দেন জাতিসংঘে। মাঠ-সহায়তা বিভাগে কাজ করেছেন ১৯ বছর এবং ১৮ বছর ছিলেন সদর দপ্তরে। এখন আছেন আফ্রিকায়।

জন্ম এবং পরিবার
আমিরা হকের জন্ম ১৯৫০ সালে ঢাকায়। বাবা ইনামুল হক এবং মা নাজিরা বেগম। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বাবা ছিলেন নামকরা প্রকৌশলী। প্রয়াত এই প্রকৌশলীর আরেকটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি, যিনি মরণোত্তর চক্ষুদান করেছেন। আমিরার বড় দুই বোন- আমিনা আহমেদ এবং তাহিরা হক। ছোট দুই ভাই রিজওয়ানুল হক ও ইহসানুল হক। ব্যক্তিগত জীবনে আমিরা হক দুই সন্তানের মা। ছেলে শিহান পেরেরা আর মেয়ে নাদিয়া পেরেরা।

শিক্ষা জীবন
১৯৫৬ সালে ভারতের শিলংয়ের লরেটো কনভেন্ট স্কুলে আমিরা হকের লেখাপড়া শুরু। ১৯৬২ সালে দেশে ফিরে ভর্তি হন ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলে। এরপর ১৯৬৮ সালে ঢাকার হলিক্রস মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ওহিয়োর অঙ্ফোর্ডের ওয়েস্টার্ন কলেজ ফর উইম্যান থেকে স্নাতক পাস করেন। দুটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একটি অর্জন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক থেকে। বিষয় ছিল কমিউনিটি অর্গানাইজেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং। অন্যটি ইউনিভার্সিটি অব কলাম্বিয়া থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওপর।

জাতিসংঘের বিভিন্ন পদে কর্মরত
৩৭ বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন পদে কর্মরত থেকেছেন আমিরা হক। শুরুটা করেছিলেন ১৯৭৬ সালে। তখন তিনি ছিলেন জুনিয়র প্রফেশনাল অফিসার। কর্মজীবনের শুরুতে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায়। দুই বছর পর ১৯৭৮ সালে সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে বদলি হন আফগানিস্তানে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইউএনডিপি সদর দপ্তরের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনা ছিল তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভুটান-বিষয়ক ডেস্ক অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়াও ১৯৮৫ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত নারীদের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলেরও (ইউনিফেম) দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পালন করেছেন মালয়েশিয়ায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্ব। এই পদে লাওসে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে আফগানিস্তানে ছিলেন ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। একই পদে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন সুদানে। গেল বছর ইউএসজি পদে যোগদানের আগে ২০০৯ সাল থেকে ছিলেন পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘের সমন্বিত মিশনের (ইউএনএমআইটি) প্রধান এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সে-দেশবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি। নানা সময়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, সুদানে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়ক, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন আমিরা হক। এ ছাড়াও নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সদর দপ্তরে 'দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসন' বিভাগের উপপরিচালক এবং উপসহকারী প্রশাসক হিসেবেও কাজ করেছেন আমিরা হক।

যে কারণে জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেলারেল ও মাঠ-সহায়তা বিভাগের প্রধান
পূর্ব তিমুরে আমিরা হকের ব্যাপক সাফল্যের কারণেই জাতিসংঘ এই নিষ্ঠাবান কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে ইউএসজিএস বা আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে। ডিসেম্বরে তিনি শেষ করেছেন পূর্ব তিমুর মিশন। দেশটি স্বাধীনতা লাভ করেছিল ২০০২ সালে, বহু দিন ইন্দোনেশিয়ার শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর। তবে সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত দুর্বল, সামাজিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে (এইচডিআই) অবস্থান ছিল ১৩৪তম। উন্নয়নের পথে পূর্ব তিমুরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পাশে এসে দাঁড়ায় জাতিসংঘ। গ্রহণ করে নানা উদ্যোগ। ২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট গঠন করা হয় ইউনাইটেড নেশনস ইনটিগ্রেটেড মিশন ইন ইস্ট তিমুর (ইউএনএমআইটি)। যার প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করেন আমিরা। তিনি কেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, সে প্রশ্নের জবাবে এই উদাহরণই যথেষ্ট- এ বছর দ্রুত জিডিপি বর্ধনশীল দেশগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পূর্ব তিমুর। যার অন্যতম কারিগর আমিরা হক।

সংকটে সংগ্রামে
আমিরার প্রথম মিশন ছিল আফ্রিকার সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি স্থাপন। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের সমন্বিত মিশনটি 'আফ্রিকান ইউনিয়ন-ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন দারফুর (ইউএনএমআইডি) নামে পরিচিত। এ কঠিন কাজের দায়িত্ব নিয়ে আমিরা ঘুরে বেড়িয়েছেন বিপদসঙ্কুল এলাকাগুলোতে। গিয়েছেন সুদানের দারফুরে। যেখানে এক দশক ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ। সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট এবং জাস্টিস অ্যান্ড ইকুয়ালিটি মুভমেন্টের সশস্ত্র সংঘাত চলছে সুদান সরকারের সঙ্গে। সরকার এবং বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংঘর্ষে মারা গেছে হাজার হাজার মানুষ। আমিরা হক এ মিশনে এসে সুদান সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসেছেন। শান্তির বাণী নিয়ে গিয়েছেন তিনি। বলেছেন 'ইউএসজি হিসেবে এটাই আমার প্রথম কাজ। এখানে আমার একটিই উদ্দেশ্য- প্রত্যেক গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলা। যার যে সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা।' এই কাজের পাশাপাশি দারফুরে তিনি একটি হাসপাতাল পরিচালনার কাজ শুরু করেন। যুদ্ধাহত মানুষ এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় সেখানে। সে হাসপাতালে এ পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন মানুষ একযোগ জরুরি সেবা নিতে পারেন। এ ছাড়াও জাতিসংঘের সদস্যদের জীবনরক্ষায়ও ভূমিকা রেখেছেন আমিরা। কাবকাবিয়া নামের এক এলাকা থেকে অপহৃত দুই পুলিশ সদস্যের মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। যাঁরা জর্দানের নাগরিক।

বাংলাদেশে আমিরা হক
ইউএসজি পদে যোগদানের পর ৫ জানুয়ারি ঢাকা সফর করেন আমিরা হক। ছিলেন সাত দিন। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে। আলাপকালে প্রতিশ্রুতি দেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ থেকে যেন আরো বেশি সৈন্য নেওয়া হয় এবং অন্য সুবিধাদিও পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। এ ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সহায়তা কার্যক্রমের ওপর আলোচনা করেছেন। জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'শান্তিরক্ষা মিশনে অভূতপূর্ব অবদানের জন্য বাংলাদেশ অবশ্যই গর্ব করতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও শান্তিরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।' ওই সময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশি গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শান্তি মিশনের ফিল্ড সাপোর্ট কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারিগরি পণ্য সরবরাহে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মনোযোগী হওয়ারও আহ্বান জানান।

সফরকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গেও সৌজন্য বৈঠক করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সেনাবাহিনী প্রধান ও পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর আগেও নিজের দেশে এসেছেন আমিরা হক। জাতিসংঘের সমন্বিত মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল দেখা করেছিলেন ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। বাবা ইনামুল হকের স্মৃতি ধরে রাখতে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাবার নামে একটি শিক্ষাবৃত্তিও চালু করেছেন আমিরা। যার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষার্থীরা পাবেন লেখাপড়ার পুরো খরচ। এ ছাড়া স্বল্প পরিমাণে অন্যান্য খরচও বহন করবে বৃত্তিটি।


তথ্যসূত্র : প্রিয়.কম

UploaderAdmin
No results found.
No results found.

© 2018 Golden Femina. Developed by Optimo Solution